বুধবার । ২৭শে মে, ২০২৬ । ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩

শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে উপকূলের কোরবানির পশুর হাট

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি

পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে সাতক্ষীরার উপকূলীয় অঞ্চলসহ গোটা জেলায় শেষ মুহূর্তে জমে উঠেছে কোরবানির পশুর হাট। সময় ঘনিয়ে আসার সঙ্গে সঙ্গে হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিশেষ করে শ্যামনগর, আশাশুনি ও কালিগঞ্জ উপজেলার হাটগুলোতে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত চলছে জমজমাট কেনা-বেচা।

জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এবার জেলায় চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে, যা স্থানীয় ক্রেতাদের স্বস্তি দিচ্ছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছর সাতক্ষীরায় কোরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ১ লাখ ১ হাজার ৬৪০টি। এর বিপরীতে স্থানীয় খামারি ও চাষিরা প্রস্তুত করেছেন ১ লাখ ২০ হাজার ২২টি পশু। ফলে জেলায় এবার ১৮ হাজার ৩৮২টি পশু উদ্বৃত্ত রয়েছে।

প্রস্তুতকৃত পশুর মধ্যে রয়েছে ৩৫ হাজার ৯১৫টি ষাঁড়, ৩ হাজার ৬৩৫টি বলদ, ১১ হাজার ১৮৫টি গাভি, ১৫৪টি মহিষ, ৬৩ হাজার ১০৩টি ছাগল ও ৬ হাজার ২০টি ভেড়াসহ অন্যান্য আরও ১০টি পশু।

হাটে আসা ক্রেতারা জানান, শুরুর দিকে পশুর দাম কিছুটা চড়া মনে হলেও শেষ সময়ে এসে বাজার অনেকটাই নাগালের মধ্যে। ৫০ হাজার থেকে শুরু করে দেড় লাখ টাকার মধ্যে মধ্যম ও মাঝারি আকারের গরুর চাহিদা সবচেয়ে বেশি। মধ্যবিত্ত ক্রেতারা নিজেদের সাধ্যের মধ্যে পছন্দের পশু কিনতে পারছেন।

শুধু গরু নয়, সমানতালে জমে উঠেছে ছাগলের হাটগুলোও। স্বল্প বাজেট এবং ছোট পরিবারের ক্রেতারা এখন ছাগলের বাজারমুখী হচ্ছেন। বাজার ঘুরে দেখা গেছে, ১৫ হাজার থেকে শুরু করে ৪০ হাজার টাকার মধ্যে বিভিন্ন জাতের ছাগল কেনা-বেচা হচ্ছে।

হাটে আসা ক্রেতা কবির হোসেন, জাহাঙ্গীর আলম ও সাইফুল ইসলাম কাজল বলেন, “প্রথমদিকে বিক্রেতারা দাম অনেক বেশি চাচ্ছিলেন। এখন শেষ সময়ে এসে দরদাম করে সাধ্যের মধ্যে ভালো পশু কেনা যাচ্ছে। মূলত এই সুযোগটির জন্যই আমরা শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত অপেক্ষা করেছি।”

অন্যদিকে বিক্রেতা রসুল গাজী ও গামা সরদার জানান, ঈদ একদম দোরগোড়ায় চলে আসায় তারা আর ঝুঁকি নিতে চাচ্ছেন না। হাটে ক্রেতার চাপ যেমন বেড়েছে, তেমনি বিক্রি নিশ্চিত করতে বিক্রেতারাও দাম কিছুটা ছাড়ছেন। ফলে শেষ মুহূর্তে এসে হাটে পুরোদমে প্রাণ ফিরেছে।

হাটগুলোর সার্বিক শৃঙ্খলা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিশেষ নজরদারি চালানো হচ্ছে। জালিয়াতি ও অজ্ঞান পার্টির তৎপরতা রোধ এবং যানজট নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ও স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবকরা কাজ করছেন।

সাতক্ষীরা জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. এম এম মান্নান কবীর জানান, এবার জেলায় ১৬টি স্থায়ী ও অস্থায়ী পশুর হাট বসেছে। হাটে অসুস্থ পশু শনাক্ত ও চিকিৎসার জন্য ১৪টি ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল টিম সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে।

তিনি আরও বলেন, খামারিরা যাতে তাদের পশুর ন্যায্য মূল্য পান এবং ক্রেতারা যাতে সুস্থ-সবল পশু কিনতে পারেন, সেজন্য আমাদের কর্মকর্তারা মাঠপর্যায়ে সক্রিয় রয়েছেন। নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত উপায়ে পশু লালন-পালনের জন্য আমরা বছরজুড়েই খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দিয়ে আসছি।”

কোরবানির বাকি আর মাত্র একদিন। তাই কোনো প্রকার তাড়াহুড়ো না করে ধীরেসুস্থে দেখেশুনে পছন্দের পশুটি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন উপকূলের মানুষ। সব মিলিয়ে সাতক্ষীরার পশুর হাটগুলোতে এখন বিরাজ করছে এক উৎসবমুখর পরিবেশ।

 




আরও সংবাদ

খুলনা গেজেটের app পেতে ক্লিক করুন